আজকের দিনে বিজ্ঞানের এক চমকপ্রদ খবরে জানা গেছে যে, নেদারল্যান্ডসে পাওয়া একটি প্রাচীন রোমান পাথরের টুকরো আসলে একটি লুপ্ত বোর্ড গেম বা খেলার ছক ছিল। শুধু তাই নয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর সাহায্যে বিজ্ঞানীরা এই খেলার হারিয়ে যাওয়া নিয়মকানুনও উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।
রহস্যময় পাথরের টুকরো
নেদারল্যান্ডসের হিয়েরলেন (Heerlen) শহরে, যা রোমান যুগে 'কোরিওভাল্লাম' (Coriovallum) নামে পরিচিত ছিল, খননকার্যের সময় একটি অদ্ভুত চুনাপাথরের টুকরো পাওয়া যায়। পাথরটিতে বিভিন্ন জ্যামিতিক নকশা এবং আঁচড় কাটা ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকরা অনেকদিন ধরেই সন্দেহ করছিলেন যে এটি কোনো খেলার বোর্ড হতে পারে, কিন্তু এর নিয়ম কী বা এটি কীভাবে খেলা হতো, তা ছিল সম্পূর্ণ অজানা।
এআই (AI)-এর অবিশ্বাস্য ভূমিকা
লেইডেন ইউনিভার্সিটি (Leiden University) এবং মাস্ট্রিচ ইউনিভার্সিটির (Maastricht University) গবেষকরা এই রহস্য সমাধানে 'Ludii' নামক একটি এআই সিস্টেম ব্যবহার করেন। তাদের পদ্ধতিটি ছিল অত্যন্ত অভিনব:
১. সিমুলেশন: এআই সিস্টেমটি হাজার হাজার বার বিভিন্ন নিয়মে কাল্পনিক খেলা খেলে দেখেছে। ২. ক্ষয়ক্ষতি বিশ্লেষণ: পাথরের ওপর যেই দাগ বা ক্ষয়ের চিহ্ন (wear patterns) ছিল, সেগুলোর সাথে এআই-এর খেলার প্যাটার্ন মিলিয়ে দেখা হয়। অর্থাৎ, পাথরটির কোন অংশে ঘুঁটি বেশি ঘষা খেয়েছে, তা বিশ্লেষণ করা হয়। ৩. ফলাফল: এআই নিশ্চিত করেছে যে এটি একটি 'ব্লকিং গেম' (Blocking Game) ছিল, যেখানে প্রতিপক্ষকে চাল দেওয়া থেকে আটকানোই ছিল মূল লক্ষ্য।
খেলাটির নাম: লুডাস কোরিওভাল্লি (Ludus Coriovalli)
গবেষকরা এই গেমটির নাম দিয়েছেন 'লুডাস কোরিওভাল্লি'। এআই-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী খেলাটির নিয়মগুলো অনেকটা এই রকম:
-
এটি দুইজন খেলোয়াড়ের খেলা।
-
এটি একটি অসম খেলা, অর্থাৎ দুই পক্ষের ঘুঁটির সংখ্যা সমান নয়। সম্ভবত এক পক্ষের কাছে ৪টি এবং অন্য পক্ষের কাছে ২টি ঘুঁটি থাকত।
-
খেলার কৌশল অনেকটা 'বাঘ-বকরি' বা শিকারি ও শিকারের মতো। এক পক্ষ চেষ্টা করত অন্য পক্ষকে কোণঠাসা করে আটকে দিতে।
কেন এই আবিষ্কার গুরুত্বপূর্ণ?
এই আবিষ্কারটি ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন মনে করা হতো যে এই ধরণের 'ব্লকিং গেম' বা কৌশলী খেলা মধ্যযুগের আগে ইউরোপে প্রচলিত ছিল না। কিন্তু এআই প্রমাণ করল যে রোমানরা প্রায় ১৫০০ বছর আগেই এই জটিল কৌশলের খেলাটি খেলত। এটি প্রমাণ করে যে প্রাচীন মানুষের বিনোদন এবং বুদ্ধিমত্তা আমাদের ধারণার চেয়েও উন্নত ছিল।
শেষ কথা
এই ঘটনাটি কেবল প্রত্নতত্ত্বের জয় নয়, বরং এআই প্রযুক্তিরও এক বিশাল সাফল্য। এটি দেখিয়ে দিল যে এআই কেবল ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়, বরং এটি আমাদের হারিয়ে যাওয়া অতীতকেও পুনরুদ্ধার করতে পারে।