বিশ্ব রাজনীতিতে ফের অস্থিরতা। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্ক আবারও যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে "চরম পরিণতির" হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, অন্যদিকে ইরানও পাল্টা জানিয়ে দিয়েছে যে তারা যেকোনো আক্রমণের মোকাবিলায় প্রস্তুত। এই উত্তেজনার জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও সোনার দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের কঠোর বার্তা ও আল্টিমেটাম
হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ সকালেই এক বিবৃতিতে তিনি ইরানকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "আলোচনার সময় শেষ হয়ে আসছে।"
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি অবিলম্বে নতুন পারমাণবিক চুক্তিতে রাজি না হয়, তবে তাদের ওপর এমন হামলা চালানো হবে যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে "অনেক বেশি ভয়াবহ" হবে। পেন্টাগন সূত্রে খবর, ট্রাম্পের নির্দেশের পরপরই পারস্য উপসাগরের দিকে একটি বিশাল মার্কিন রণতরী বা 'আর্মাডা' রওনা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন একে ইরানের প্রতি তাদের সামরিক শক্তির স্পষ্ট প্রদর্শনী হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ইরানের পাল্টা জবাব: ‘ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে’
মার্কিন হুমকির জবাবে তেহরানও তাদের অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।
ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে তাদের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং তাদের "ট্রিগারে আঙুল রাখা আছে।" তেহরান স্পষ্ট করে বলেছে, সামরিক হুমকির মুখে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না। পাশাপাশি, ইরান তাদের উপকূলীয় এলাকায় এবং হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে মহড়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্ববাজারে প্রভাব ও অর্থনৈতিক শঙ্কা
দুই পরাশক্তির এই সংঘাতে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগার আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুদ্ধের ডামাডোলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
এছাড়া, অনিশ্চয়তার কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার দামেও রেকর্ড উল্লম্ফন দেখা গেছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি সত্যিই সংঘাত শুরু হয়, তবে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতি একটি বড় মন্দার মুখে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই পরিস্থিতিতে বিশ্বের অন্যান্য পরাশক্তিগুলোও নড়েচড়ে বসেছে। রাশিয়া ও চীন সংযত থাকার আহ্বান জানালেও, তারা পরোক্ষভাবে ইরানের পাশে থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) দুই পক্ষকেই শান্তি বজায় রাখার এবং কূটনৈতিক পথে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি ইউরোপের অনেক নেতারই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
পরবর্তী পরিস্থিতি কী হতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আগামী কয়েক দিন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল নৌবহর উপসাগরের দিকে এগোচ্ছে, অন্যদিকে ইরানও নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা প্রস্তুত রেখেছে। একটি ছোট ভুল বা ভুল বোঝাবুঝি পুরো অঞ্চলকে ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের ওপর।