ভারত-বিরোধিতাই পাকিস্তানের একমাত্র নীতি, রাষ্ট্রপুঞ্জে স্পষ্ট ভাষায় জানাল নয়াদিল্লির প্রতিনিধি!

28th January 2026 11:18 am Global News
ভারত-বিরোধিতাই পাকিস্তানের একমাত্র নীতি,  রাষ্ট্রপুঞ্জে স্পষ্ট ভাষায় জানাল নয়াদিল্লির প্রতিনিধি!


রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের মঞ্চে সোমবার ফের প্রকাশ্যে মুখোমুখি সংঘাতে জড়াল ভারত ও পাকিস্তান। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে পাকিস্তান। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বৈঠকে অংশ নিয়ে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আসিম ইফতিকার আহমদ ভারতের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উত্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ‘অপারেশন সিঁদুর’, জম্মু ও কাশ্মীর পরিস্থিতি এবং বহুদিনের বিতর্কিত সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির প্রসঙ্গ।

পাক প্রতিনিধি তাঁর ভাষণে দাবি করেন, ভারতের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করছে। বিশেষ করে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে তিনি নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা শানান এবং কাশ্মীর পরিস্থিতি নিয়ে পুরনো অভিযোগগুলিকে নতুন করে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তা পরিষদের মঞ্চে পাকিস্তানের এই বক্তব্যকে অনেকেই ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সহানুভূতি আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখছেন।

তবে ইসলামাবাদের এই আক্রমণের জবাব দিতে এক মুহূর্তও দেরি করেনি নয়াদিল্লি। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি পর্বতেনি হরিশ পাল্টা বক্তব্যে পাকিস্তানের অবস্থানকে “ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানের একমাত্র ধারাবাহিক লক্ষ্য হল ভারত এবং ভারতীয় জনগণের ক্ষতি সাধন করা। তাঁর মতে, সন্ত্রাসবাদকে হাতিয়ার করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে মিথ্যা বয়ান তৈরির পুরনো অভ্যাস এখনও ত্যাগ করতে পারেনি ইসলামাবাদ।

হরিশ বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, গত মে মাসে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে পাকিস্তান যে ভাষ্য আন্তর্জাতিক মহলে ছড়াচ্ছে, তা বাস্তবের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গত। তাঁর কথায়, এই অভিযান কোনও আগ্রাসন নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তা পরিষদই অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিল। ভারত সেই আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতাকেই পালন করেছে।

ভারতের প্রতিনিধি স্পষ্ট করে জানান, সীমান্তের ওপারে থাকা জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারত আসলে সেই সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কগুলিকেই নিশানা করেছে, যেগুলি দীর্ঘদিন ধরে ভারতের মাটিতে হামলার ছক কষে আসছে। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট—সন্ত্রাসবাদে মদত দেওয়া কোনও দেশেরই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নৈতিক উচ্চাসন নেওয়ার অধিকার নেই।

জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের মন্তব্যেরও তীব্র প্রতিবাদ জানান হরিশ। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং থাকবে। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, যেখানে তৃতীয় কোনও দেশের হস্তক্ষেপ বা মন্তব্য করার কোনও আইনগত বা নৈতিক অধিকার নেই। পাকিস্তান এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক করার চেষ্টা করলেও বাস্তব বদলাবে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি।

সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অভিযোগের জবাব দিতেও পিছপা হননি ভারতের প্রতিনিধি। হরিশ জানান, এই চুক্তির মূল শর্ত ও বিশ্বাস বহু আগেই লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তান। তিনটি যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া, সীমান্তে ধারাবাহিক উত্তেজনা সৃষ্টি এবং ভারতের বিরুদ্ধে হাজারেরও বেশি সন্ত্রাসবাদী হামলার মাধ্যমে ইসলামাবাদ নিজেই চুক্তির ভিত্তিকে দুর্বল করেছে। এই পরিস্থিতিতে চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত ভারতের সার্বভৌম অধিকার বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বিতর্ক আবারও স্পষ্ট করে দিল যে নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্যপদকে ব্যবহার করে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে। তবে একই সঙ্গে এটাও পরিষ্কার যে ভারত এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও স্পষ্ট কণ্ঠে নিজের অবস্থান তুলে ধরছে।

এই মুখোমুখি বাক্যবিনিময়ের মাধ্যমে নয়াদিল্লি আন্তর্জাতিক সমাজকে আরও একবার জানিয়ে দিল—সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে কোনও আপস নয়, এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে এই সংঘাত তাই শুধু ভারত-পাক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতিফলন নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা রাজনীতির গভীর বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এল।





Others News

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকট |

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকট |


বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে বড় খবর হলো ইরান এবং ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া প্রত্যক্ষ সংঘাত। গত কয়েকদিন ধরে চলা পাল্টাপাল্টি হামলার পর আজ পরিস্থিতি এক নতুন এবং ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংবাদমাধ্যমগুলোর শিরোনামে এখন শুধুই মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা।

১. ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তার মৃত্যু

আজকের সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্যকর খবর হলো ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান আলি লারিমানি-র মৃত্যু। ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন বলে ইরান নিশ্চিত করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে একে "শহীদত্ব বরণ" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে এবং এর কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করা হয়েছে।

২. উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

আজ ভোরে কাতারের রাজধানী দোহায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শহরের আকাশে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দেওয়ার সময় ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা গেছে। এর ফলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

৩. ইসরায়েলে পাল্টা আঘাত

ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তেল আবিবের নিকটবর্তী রামাত গান এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত দুজন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইরান দাবি করেছে, তারা অত্যাধুনিক 'ক্লাস্টার ওয়ারহেড' ব্যবহার করে এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

৪. বৈশ্বিক প্রভাব ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

এই যুদ্ধের প্রভাব ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে।

  • জ্বালানি সংকট: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।

  • দক্ষিণ এশিয়া: শ্রীলঙ্কায় জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতোমধ্যেই ৪ দিনের কর্মদিবস ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতেও রান্নার গ্যাস (LPG) সরবরাহে টান পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

৫. বিশ্বশক্তির অবস্থান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী মুক্ত করতে যুক্তরাষ্ট্র একাই সক্ষম এবং এ কাজে ন্যাটোর সহায়তার প্রয়োজন নেই। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে বিশ্বের নজর সরে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি।


দ্রষ্টব্য: পরিস্থিতি অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও আপাতত শান্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।