আইএসএফ ও আশাকর্মীদের জোড়া কর্মসূচিতে নাজেহাল শহর, কাজের দিনে বাইপাস ও মধ্য কলকাতায় তীব্র যানজট

21st January 2026 6:27 pm State News
আইএসএফ ও আশাকর্মীদের জোড়া কর্মসূচিতে নাজেহাল শহর, কাজের দিনে বাইপাস ও মধ্য কলকাতায় তীব্র যানজট


সপ্তাহের মাঝেই কর্মব্যস্ত দিনে কার্যত অচল হয়ে পড়ল কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। বুধবার শহরে একসঙ্গে দু’টি বড় কর্মসূচির জেরে সকাল থেকেই তীব্র যানজটের কবলে পড়েন নিত্যযাত্রীরা। এক দিকে সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনে আশাকর্মীদের অভিযান, অন্য দিকে ধর্মতলার শহিদ মিনারে আইএসএফের কর্মসূচি—এই দুই আন্দোলনের প্রভাব পড়ে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির ছবি ধরা পড়ে ইএম বাইপাসে। সেক্টর ফাইভ ও নিউটাউনের অফিসপাড়ায় যাওয়ার পথে নিকো পার্ক সংলগ্ন এলাকা থেকেই গাড়ির গতি কমতে শুরু করে। ধীরে ধীরে যানজট ছড়িয়ে পড়ে চিংড়িঘাটা পর্যন্ত। সায়েন্স সিটির মোড়ে অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক বেশি সময় সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় অফিসযাত্রীদের। চিংড়িঘাটা থেকে সেক্টর ফাইভ পর্যন্ত রাস্তা কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়।

এই পরিস্থিতির মূল কারণ ছিল আশাকর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান। রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে বুধবার সকালে কলকাতায় আসেন তাঁরা। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে ট্রেন থেকে নামতেই তৈরি হয় ব্যাপক ভিড়। নিত্যযাত্রীদের অভিযোগ, স্টেশন চত্বর এবং সংলগ্ন রাস্তায় বিশৃঙ্খলার কারণে বাস বা অন্যান্য যান ধরতে চরম সমস্যায় পড়তে হয় তাঁদের। স্টেশন এলাকা ছাড়াও আশপাশের রাস্তাগুলিতেও যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবনের সামনে পৌঁছে আশাকর্মীদের একটি বড় অংশ বিক্ষোভে সামিল হন। সেখানে আগে থেকেই ব্যারিকেড বসানো ছিল। সেই ব্যারিকেড টপকে এগোনোর চেষ্টা করতেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। এর জেরেই সেক্টর ফাইভ এলাকায় আরও তীব্র হয় যানজট।

এদিকে শহরের অন্য প্রান্তেও স্বস্তি ছিল না। আইএসএফের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে ধর্মতলার শহিদ মিনারে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে উত্তর ২৪ পরগনা-সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে বাস ও ট্রাকে করে সমর্থকেরা আসেন। ফলে এজেসি বোস রোড, এসএন ব্যানার্জি রোডে ভিড় বাড়ে। অনেক সমর্থকের গাড়ি সায়েন্স সিটি হয়ে ধর্মতলার দিকে যাওয়ায় সায়েন্স সিটি মোড়, তপসিয়া এবং পার্ক সার্কাস এলাকাতেও যানজট তৈরি হয়।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন আশাকর্মীদের একটি দল শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ধর্মতলার উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন। নিউ মার্কেট থানার কাছে সেই মিছিল আটকে দেয় পুলিশ। সেখানে আবারও পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় আন্দোলনকারীদের। এর ফলে নিউ মার্কেট চত্বর এবং এসএন ব্যানার্জি রোডে যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশের এক আধিকারিক জানান, শহরের বিভিন্ন জায়গায় একাধিক কর্মসূচি থাকায় কিছু এলাকায় চাপ তৈরি হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, স্থায়ী সাম্মানিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ, অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া পরিশোধ-সহ একাধিক দাবিতে টানা আন্দোলন চালাচ্ছেন আশাকর্মীরা। তাঁদের দাবি আদায়ে গত ২৯ দিন ধরে রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতি চলছে। বুধবার সেই আন্দোলনের অংশ হিসেবেই স্বাস্থ্য ভবনে ডেপুটেশন জমা দিতে অভিযান করেন তাঁরা।





Others News

পশ্চিমবঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ |

পশ্চিমবঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ |


সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশিকা মেনে পশ্চিমবঙ্গে আজ প্রকাশিত হতে চলেছে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা। আসন্ন নির্বাচনের আগে এই তালিকা প্রকাশ রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক স্তরে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।


ভোটার তালিকার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ

  • মোট ভোটারের সংখ্যা: খসড়া তালিকা অনুযায়ী রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ৭ কোটি ৮ লক্ষ, যা এই চূড়ান্ত তালিকাতেও অপরিবর্তিত থাকছে।

  • বিশেষ ক্যাটেগরি বিভাজন: এবারের তালিকায় নামের পাশে বিভিন্ন বিশেষ মন্তব্য বা 'মার্ক' থাকছে। যাদের আবেদন সম্পূর্ণ মঞ্জুর হয়েছে, তাদের নাম স্বাভাবিকভাবেই তালিকায় থাকছে।

  • বাতিল হওয়া নাম: যেসব ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, তাদের নামের পাশে স্পষ্টভাবে "Deleted" (বাতিল) লেখা থাকবে।

  • বিচারাধীন আবেদন: যে প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নথিপত্র এখনও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দ্বারা খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তাদের নামের পাশে "Under Adjudication" (বিচারাধীন) উল্লেখ করা থাকবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভিন রাজ্য থেকেও বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের এই কাজে নিয়োগ করা হয়েছে।

  • তালিকা দেখার সুবিধা: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) ওয়েবসাইট এবং ECI Net অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি দেখা যাবে। এছাড়া জেলাশাসক, মহকুমা শাসক এবং বিডিও অফিসেও অফলাইন কপি সাধারণ মানুষের পরিদর্শনের জন্য উপলব্ধ থাকবে।


রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল জানিয়েছেন যে, এই প্রথমবার কোনো ভোটার তালিকায় 'Adjudication' বা বিচারাধীন মার্ক যুক্ত করা হচ্ছে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত এই যাচাই পর্ব চলবে এবং পরবর্তীতে একাধিক সাপ্লিমেন্টারি বা পরিপূরক তালিকাও প্রকাশ করা হবে।