পোস্তা থানার পুলিশ গ্রেফতার করেছে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড নেতা তরুণ তিওয়ারিকে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম করে extortion বা তোলাবাজি করেছেন। এই ঘটনাটি হাওড়ার লিলুয়ার এক ব্যবসায়ী, সচিন পালিতের অভিযোগের ভিত্তিতে সামনে আসে।
অভিযোগকারী সচিন পালিত জানান, তরুণ তিওয়ারি তাকে বলেন যে তার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং এর প্রমাণ হিসেবে তাকে অভিষেকের সঙ্গে নিজের ছবিও দেখান। এরপর, তিনি ৬ লক্ষ টাকা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। গতকাল, পালিতের মা যখন তরুণ তিওয়ারির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তখন তরুণের আচরণ ছিল অশোভন এবং তিনি বলেন, “টাকা দিলে মা ছাড়া হবে।”
এদিকে, পালিত জানান, প্রথমে ৩ লক্ষ টাকা চাওয়া হলেও তিনি আড়াই লক্ষ টাকা দেন। এরপরই অভিযোগ দায়ের করা হয় পোস্তা থানায়। তৃণমূল কংগ্রেস দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তরুণ তিওয়ারিকে যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক পদ থেকে সাসপেন্ড করে এবং তাকে দলের বৈঠকগুলো থেকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়।
যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী সায়নী ঘোষ বলেন, “দলবিরোধী কাজের জন্য তরুণ তিওয়ারিকে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং তাকে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেওয়া হবে না।”
পুলিশ তরুণ তিওয়ারির বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ১২৭(৭), ৩০৮(৫), ৩৫১(৩), ৭৯ এবং ৩(৫)। এছাড়া, তার সঙ্গে আরও দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যারা রাহুল পুরোহিত এবং রাহুল সিং নামে পরিচিত।
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “তৃণমূল একটি বড় দল। তবে যখন এমন অভিযোগ আসে, তখন তৃণমূল তৎকালিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এটা দলের গ্রহণযোগ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে, এবং তৃণমূল কংগ্রেসের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে কিছু মহলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।