ডায়াবিটিস আছে, ‘ইনস্ট্যান্ট নুডলস’ খেলে কি রক্তে শর্করা আরও বেড়ে যেতে পারে?

12th April 2024 8:33 pm Country News
ডায়াবিটিস আছে, ‘ইনস্ট্যান্ট নুডলস’ খেলে কি রক্তে শর্করা আরও বেড়ে যেতে পারে?


দীর্ঘ দিন ধরেই ডায়াবিটিস রয়েছে। তাই খাওয়াদাওয়ার উপর বিশেষ নজর দিতেই হয়। তবে, কাজে বেরোনোর আগে কিংবা কাজ থেকে ফিরে সব সময় রান্না করতে ইচ্ছে করে না বলে ‘ইনস্ট্যান্ট নুডলস’ দিয়েই কাজ চালিয়ে নেন। পেটও ভরে, রাঁধতে খুব বেশি সময়ও লাগে না। তবে, পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ডায়াবেটিকদের ক্ষেত্রে এই ধরনের নুডলস কিন্তু ক্ষতিকর। স্বাদে মিষ্টি না হলেও এই ধরনের খাবারে শর্করার পরিমাণ অনেকটাই। তাই ডায়াবিটিস রোগীদের জন্য তা একেবারেই নিরাপদ নয়। তা হলে কি নুডলস খাওয়া ছেড়ে দিতে হবে?

নুডলস বা চাউমিন তৈরির মূল উপকরণ হল ময়দা। ময়দা আসলে কার্বোহাইড্রেট। এই কার্বোহাইড্রেটের মধ্যে শর্করা রয়েছে। ময়দার মধ্যে রয়েছে স্টার্চ, যা সহজে হজম হয়ে যায়। তাই নুডলস খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয়। অবশ্য, সব সংস্থার ইনস্ট্যান্ট নুডলসে যে একই রকম কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা থাকবে, তেমনটা নয়। তবে, এই ধরনের নুডলস সাধারণত কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকে। ময়দায় গ্লাইসেমিক ইনডেক্স বেশি। তাই পুষ্টিবিদেরা বলছেন, ময়দার বদলে হোলগ্রেন আটা বা দানাশস্যের আটা দিয়ে তৈরি নুডলস খাওয়া যেতে পারে। এই খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। নেটপ্রভাবী এবং পুষ্টিবিদ পূজা শাহ ভাবে বলছেন, এক কাপ নুডলসে যে পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট থাকে, তা একটি রুটির দ্বিগুণ এবং এক কাপ ভাতের দেড় গুণ।

 

তা হলে নুডলসের বদলে অন্য কী খাওয়া যেতে পারে?

শুধু নুডলস নয়, ময়দা দিয়ে তৈরি যে কোনও ধরনের খাবারেই কার্বোহাইড্রেট, শর্করা থাকে। তাই একান্ত যদি সেই সব খাবার খেতেই হয়, তা হলে অবশ্যই পরিমাণের দিকে নজর দিতে হবে। সারা দিনে অন্য যে সব খাবার খাচ্ছেন, তার মধ্যে কতটা কার্বোহাইড্রেট রয়েছে, সে সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকা প্রয়োজন। তবেই রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।