শরীরচর্চা করতে গেলেই পেশিতে টান ধরছে? কেন বার বার এমন সমস্যা হচ্ছে?

4th March 2024 9:02 pm Country News
শরীরচর্চা করতে গেলেই পেশিতে টান ধরছে? কেন বার বার এমন সমস্যা হচ্ছে?


সারা দিনের কাজের চাপে পর্যাপ্ত পরিমাণ জল খেতেও ভুলে যান অনেকেই। আর তাতেই হয় বিপত্তি। জলের মাধ্যমেই বেশির ভাগ শারীরবৃত্তীয় কাজ সম্পন্ন হয়। শরীরে দৈনন্দিন জলের যে চাহিদা পূরণ না হলে নানা রকম শারীরিক গোলমাল শুরু হয়। জল যে শুধু শরীরে আর্দ্রতা বজায় রাখে তা-ই নয়, পরিপাকতন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্রকে সুসংগঠিত রাখতেও জল অপরিহার্য। শরীরে জলের অভাব হলে, শরীর নিজে থেকেই সেই সঙ্কেত দেয়। সেই লক্ষণগুলি চিনতে পারলেই বোঝা যাবে যে, শরীরে জলের অভাব মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

১) টান ধরা: যখন ব্যায়াম করেন, তখন শরীরও গরম হয়ে যায়। তা ঠান্ডা হতে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলের প্রয়োজন। কিন্তু ডিহাইড্রেশন হলে, সেই জল মাংসপেশিগুলি পায় না। তাই চট করে হাত-পায়ে টান লেগে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

 

২) মিষ্টি খাওয়ার প্রবল ইচ্ছে: শরীরের জল কম গেলে আপনার লিভার ঠিক মতো কাজ করতে পারে না। লিভার জলের সাহায্যে গ্লাইকোজেন তৈরি করে, যা আমাদের কাজের ক্ষমতা জোগায়। কিন্তু সেটা ঠিক মতো না হলে শরীরের আরও বেশি খাবারের প্রয়োজন হবে। তাই নোনতা স্ন্যাকস, চকোলেট, মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।

৩) মাথা ধরা: ডিহাইড্রেশন থেকেই অনেক সময়ে মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হয়। তাই সারা ক্ষণ মাথা ধরে থাকলে একটি বড় গ্লাস ভর্তি করে জল খান। সারা দিন ধরে মাঝেমাঝেই জল বা অন্য কোনও পানীয়ে (ডিটক্স ওয়াটার, ফলের রস, শরবত, লস্যি, ঘোল ইত্যাদি) চুমুক দিন। অনেকটাই রেহাই পাবেন।

৪) মুখে দুর্গন্ধ: মুখের লালায় অ্যান্টিব্যাক্টিরিয়াল গুণ থাকে। কিন্তু জল কম খেলে বেশি লালা তৈরি হয় না এবং মুখে ব্যাক্টিরিয়া বেড়ে যায়। তা থেকেই মুখে দুর্গন্ধ তৈরি হয়। সকালে উঠে মুখে দিয়ে দুর্গন্ধ বেরোনোর কারণও তাই। ঘুমের সময়ে আমাদের শরীরের লালা উৎপাদন কম হয়। তাই সকালে উঠে মুখ ধুয়েই অনেকটা জল খেয়ে নিতে পারেন।

 

৫) শুষ্ক ত্বক: অনেকের ধারণা, খুব বেশি ঘামেন যাঁরা, তাঁদের ডিহাইড্রেশনের সমস্যা রয়েছে। তবে সত্যিটা কিছুটা আলাদা। ডিহাইড্রেশনের সমস্যা যখন বেশ বেড়ে যায়, তখন ত্বক শুকিয়ে যায়। কী করে বুঝবেন? হাতে চিমটি কেটে দেখুন। ত্বক কি অনেক ক্ষণ কুঁচকেই থাকছে? স্বাভাবিক হতে সময় নিচ্ছে? তা হলে আপনার আরও জল খাওয়া প্রয়োজন।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।