পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে গেলে দামি সব্জি বা ফল খেলেই হবে না, জানতে হবে খাওয়ার পদ্ধতিও

22nd February 2024 3:00 pm Country News
পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে গেলে দামি সব্জি বা ফল খেলেই হবে না, জানতে হবে খাওয়ার পদ্ধতিও


মাছ-মাংসের সঙ্গে ডায়েটে প্রতি দিনই পর্যাপ্ত পরিমাণ সবুজ শাক-সব্জি এবং স্যালাড খাচ্ছেন। তা সত্ত্বেও শরীর-স্বাস্থ্যে তার কোনও প্রভাব পড়ছে না! জানেন, কেন এমন হচ্ছে? উত্তরটা শুনে অনেকেই অবাক হতে পারেন। তরিতরকারি বা ফলের খোসা ছাড়ানোর জন্যই এমনটা হচ্ছে বলে মত পুষ্টিবিদদের। তাঁদের মতে, এমন কয়েকটি সব্জি ও ফল আছে, যা খোসা ছাড়িয়ে রান্না করা বা খাওয়া উচিত নয়। খোসাতেই নাকি তার বেশির ভাগ পুষ্টিগুণ রয়েছে। দেখে নিন, সেগুলি কী কী।

১) আপেল

 

হজমের গোলমাল হয় বলে অনেকেই আপেলের খোসা ছাড়িয়ে খান। আপেলের খোসায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার। খোসা ছাড়ালে তা বেরিয়ে যায়। আপেলের খোসার মধ্যে ভিটামিন সি-সহ ট্রিটারপেনয়েডস রয়েছে, যা ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উপযোগী।

২) শসা

 

শসার খোসায় প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং ফাইবার রয়েছে। ফলে ইমিউনিটি বাড়াতে বা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে খুবই কাজে দেয় শসা। কিন্তু বেশির ভাগ গিন্নিই কিন্তু স্যালাড তৈরির সময় শসার খোসা বাদ দিয়ে দেন।

 

৩) আলু

 

আমাদের দেশে তো বটেই, আলুর খোসা ছাড়িয়ে খাওয়ার অভ্যেস রয়েছে বিদেশি হেঁশেলেও। পোট্যাটো স্যালাড বা ম্যাশড্ পোট্যাটো তৈরি করতে যে সিদ্ধ আলুর খোসা ছাড়ানো হয়, তা জানেন নিশ্চয়ই। এটা কিন্তু মোটেই কাজের কথা নয়। আলুর মধ্যে যে ভিটামিন ‘বি’ বা মিনারেল রয়েছে, তার ২০ শতাংশই থাকে খোসার মধ্যে। এমনকি, সমস্ত ফাইবারও থাকে আলুর খোসার মধ্যেই। ফলে খোসা ছাড়ালে আলুর পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়।

৪) গাজর

 

শসার মতো গাজরেরও সমস্ত অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট রয়েছে তার খোসাতে। কিন্তু খোসা ছাড়ানো গাজর খেলে তার পুষ্টিগুণ কমে যায়। খোসা না ছাড়িয়ে ভাল করে ধুয়ে গাজর রান্না করা উচিত।

 

৫) বেগুন

 

বেগুনের খোসায় নাসুনিন নামের একটি ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। কোষের ক্ষয়ক্ষতি রুখতে এবং বিভিন্ন বয়সজনিত অসুখবিসুখে এটি খুবই কার্যকর। ফলে বেগুনের খোসা ছাড়িয়ে খেলে তা কিন্তু অ্যান্টি-এজিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াইতে আপনাকে অনেকটাই পিছিয়ে দেয়।





Others News

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |

হাইব্রিড সোলার সেলের যুগান্তকারী সাফল্য |


বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন শক্তির তীব্র সংকট এবং জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, তখন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগৎ থেকে একটি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক খবর সামনে এসেছে। সৌর বিদ্যুতের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা এমন এক অসামান্য সাফল্য অর্জন করেছেন, যা আগামী দিনে পৃথিবীর শক্তির চাহিদা মেটানোর চিত্রটাই বদলে দিতে পারে।

যুগান্তকারী আবিষ্কারটি কী?

দশকের পর দশক ধরে আমরা যে সাধারণ 'সিলিকন' সোলার প্যানেল ব্যবহার করে আসছি, তার বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা (efficiency) সাধারণত ২০% থেকে ২৪%-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি ট্যান্ডেম পেরভস্কাইট-সিলিকন (Tandem Perovskite-Silicon) নামক এক নতুন প্রযুক্তির সোলার সেল তৈরি করেছেন, যা সৌরশক্তিকে বিদ্যুতে রূপান্তর করার ক্ষেত্রে ৩৪%-এরও বেশি কার্যকারিতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এটি সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তির ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য লাফ।

কেন এটি এত গুরুত্বপূর্ণ?

এই নতুন প্রযুক্তির প্রভাব সুদূরপ্রসারী:

  • অল্প জায়গায় বেশি বিদ্যুৎ: এই প্যানেলগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি সৌরশক্তি শোষণ করতে পারে। ফলে, শহরাঞ্চলে যেখানে বাড়ির ছাদে জায়গা কম থাকে, সেখানে অল্প প্যানেল ব্যবহার করেই অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

  • পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন রোধ: জীবাশ্ম জ্বালানি (কয়লা, খনিজ তেল) পোড়ানোর ফলে যে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড পরিবেশে মেশে, এই প্রযুক্তি তার একটি শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এটি বিশ্ব উষ্ণায়ন (Global Warming) কমাতে সরাসরি সাহায্য করবে।

  • বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিপ্লব: যেহেতু এই সেলগুলো ছোট জায়গায় বেশি শক্তি তৈরি করতে পারে, তাই আগামী দিনে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) ছাদে এই ধরনের প্যানেল লাগিয়ে চলাকালীন অবস্থাতেই গাড়ি চার্জ করার সম্ভাবনা অনেক গুণ বেড়ে যাবে।